এতো বড় রঙ্গ

(৩)

হঠাৎ ঘড়ির কথা মনে পড়তেই দেখি চারটে প্রায় বাজে বাজে।  জনতা এসে পড়বার আগেই গ্রিন রুমটা দখল করে ফেলি বাবা। কোনও ইম্পরট্যান্ট দিনে সাজে নতুন কিছু ট্রাই করাটা আমার স্বভাব বিরুদ্ধ হলেও আজ কিচ্ছু করবার নেই। এই নতুন আই লাইনারটা আগে ব্যবহার করবার চান্সই হয়নি।

আর যেহেতু “ম্যায় আপনি সবসে ফেভারিট হুঁ” তাই সেজেগুজে কি বিনা সাজে আয়না আমাকে সব সময়েই মুগ্ধ করে।

খুশিখুশি মুখে ফাইনাল টাচ দিচ্ছি, বর্গির মত প্রবেশ করেন মিতামাসি। হাতে দুটো শাড়ি।

“দ্যাখ দ্যাখ তাড়াতাড়ি বল। কোনটা পরবো? একবার পরে ফেললে কিন্তু তুই আমাকে মরে গেলেও ছাড়াতে পারবি না”।

“এহ”। লাল পাড় প্লেন সাদা শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ি আমি। “ চলবে না। বিলকুল চলবে না”।

“চলবে না? বলিস কি রে? আজি শুভ দিনের ড্রেসকোড তো এটাই”! আর্তনাদ করে ওঠেন মাসি।

কিন্তু বিন্দুমাত্র হৃদয় গলে না আমার। “অন্যটা পরো। দ্যাটস ফার বেটার। লাল সাদা না হয়ে মেরুন সাদা হলে ক্ষতি কি?”

“আমি কিছু জানি না কিন্তু। মার্থা কিছু বললেই আমি বলব তুই আমাকে পরতে দিস নি”!

যথাসময়ে মার্থার “এটা পরলে যে” প্রশ্নের উত্তরে মাসি ঘাড় বেঁকিয়ে আমাকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু মার্থার যেটা সবচেয়ে বড় গুণ ও আমাকে জানে। তাই বৃথা তর্কে কালাতিপাত করেনি।

আহা দুনিয়ার সবাই যদি এরকম বুঝদার হত!

এসবের মাঝখানেই চলতে থাকে হাতে ধরা পাতাগুলোয় হালকা চোখ বোলানো। কি যে লিখেছি কে জানে। নিজের লেখা নিজেরই মনে থাকলে হয়।

আর সেই দুটো পুঁচকে মেয়ের কথা কি আপনাদের বলেছি? ওরা যে কি করে পিএইচডি করছে ভগবান জানেন। আমার  তো ওদের দেখলেই কিন্ডারগার্টেনে পাঠিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। মিষ্টি মিষ্টি পুতুল পুতুল মুখ আর ইন্দ্রাণীদি মুখ খুললেই খিলখিল আর থামতে চায় না। যত বলি “ওরে এবার একটু সিরিয়াসলি নে”, কে শোনে কার কথা।

ইতিমধ্যই ব্রেকিং নিউজ চলে এসেছে। হু হু বিকোচ্ছে ডিমের ডেভিল। লাইন পড়ে গেছে স্টলে। অ্যাডভান্স বুকিং চলছে রীতিমত।

শুনে টুনে যারপরনাই দুঃখিত হয়ে যাই। তার মানে পরে কিছু ঝড়তি পড়তি মাল পড়ে থাকলে যে এট্টু চেখে দেখব ভেবেছিলাম সে সম্ভাবনাতেও বাটি বাটি ওয়াটার অফ মন্ট্রিয়ল।

যাক গে। যাক গে। খেয়ে কবে কে বড়লোক হয়েছে। পরেরবার দেশে ফিরলে গোলবাড়ি থেকে একটা- দুটো- পাঁচটা ইস্পেশাল ডেভিল কিনব আর ওই স্বার্থপর ছেলেটাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাব। কে যেতে চায় ল্য তাজে? উঁ?

কাঁটায় কাঁটায় সাতটায় শুরু হল ফাংশান। নাচ-গান-হইহুল্লোড়ে বলতে নেই বেশ জমে গিয়েছিল ব্যাপারটা। আর খুদেগুলো সত্যিই অসাধারণ। কি অসম্ভব ট্যালেন্টেড একেকজন। মন ভাল করে দেওয়া পারফরম্যান্স সবকটার।

আর খোকাবাবুরা? নাহ তাঁরাও হতাশ করেননি একেবারেই। সে কি সিটি হল জুড়ে! জন্ম সার্থক হয়ে গেল আমার।

খাওয়া দিয়ে শুরু। খাওয়া দিয়ে শেষ। এই না হলে বাঙালি। ফুলকো লুচি-ছোলার ডাল-আলুর দম সুগন্ধি সরু বাসমতী আর মাটন। শেষপাতে মিষ্টি দিয়ে মধুরেণসমাপয়েৎ।

সবই তো হল মনে হচ্ছে। এবার তল্পিতল্পা গোটানোর পালা।

কিন্তু সবই কি হল? কি যেন একটা বাকি থেকে যাচ্ছে না? খুঁতখুঁতে বুকে এদিক ওদিক চোরা দৃষ্টি চালাই। আর তক্ষুনি চোখে পড়ে যায় ফাঁকিটা।

ওই তো অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে বসে আছে সে চুপচাপ। দৌড়ে তাকে আঁকড়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠি আমি।

“আরে কি কাণ্ড! একটাও ফোটো তোলা হয়নি তো? কি হবে এখন?” আমার কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে অভিমান ভোলে ক্যামেরাটাও।

এত টায়ার্ড যে এক পা ওঠবার ক্ষমতা নেই?

কাজল স্মাজ করে গেছে?

কিছু করবার নেই। ছবি আমার চাই-চাই।

ফেসবুকের অতৃপ্ত দীর্ঘশ্বাস অগ্রাহ্য করবার মতো কঠিন প্রাণ আমার কক্ষনো হবে না।

টেনেটুনে জড়ো করি সব্বাইকে।

“পারছি না- পারছি না-তুই মেরে ফেলবি আমাদের” করতে করতে এসে দাঁড়ান জনগণ।

তারপর আর কি?

হাসি হাসি মুখে ওয়ান-টু-থ্রি-চিজ! সে ছবির বিবরণ দিতে হলে আর ফেসবুক আছে কি করতে?

কি বলছেন?

ডেভিল বেচা প্রফিট? যা শুনছি খুব একটা খারাপ হয়নি। কুড়িয়ে অ্যান্ড কাঁচিয়ে নিজের পকেট থেকে কিছু না খসিয়েই এযাত্রা তাজ দর্শন হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

Advertisements

2 Comments

Add yours →

  1. darun ,darun laglo pora.

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: