শুক্রবার সমাচার

সংসার থাকলেই সাংসারিক কথাবার্তা থাকবে।  আর সাংসারিক কথাবার্তা একটা অত্যন্ত সিরিয়াস ব্যাপার বলে আমি মনে করে থাকি। আর যে কোনও সিরিয়াস ব্যাপারই সিরিয়াস মুখ করে আলোচনা করা উচিত তাই না?

সেইজন্যই প্রতিদিন সকালে আমাদের ছোট্ট বাড়িটায় কফির মাগ হাতে বেজায় গম্ভীর মুখে একজনকে রকিং চেয়ারে ঘনঘন পা দোলাতে  আর একজনকে ঢুলু ঢুলু চোখে সোফায় গুটিসুটি বসে থাকতে দেখা যায়।

এই আজ সকালের কথাটাই ধরুন না কেন।

কাল রাত্তিরে চৌধুরী সাহাবের  তিরস্কার বাণীর মধুর সুরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।  বিছানায় শুয়ে শুয়ে সমুহ ধিক্কার দিয়েছেন তিনি আমায়- ‘গড়গড় করে পড়েছ, হু হু করে মুখস্থ করেছ, গুচ্ছ মার্কস পেয়ে বেরিয়েছ। একটি ফ্যাক্টও মগজে রাখনি ।ইউজলেস”।  তিনি ক্রুসেড নিয়ে পড়া ধরছিলেন রাত্তির তেরোটার সময়। যদি বা কিছু জানতাম অত ব্যাক টু ব্যাক প্রশ্নের চোটে সব গুলিয়ে লাট।

কফিতে চুমুক দিচ্ছি আর ভাবছি আর যাই হোক , একটা থরো গুগল সার্চ করবার আগে এ মক্কেলকে আর কিছুতেই ক্রুসেডে ফিরতে দেওয়া যাবে না।  তা চৌধুরী সাহেব মানুষ খারাপ নয়। তাঁর কাছেও এ এক নতুন প্রভাত।

হাসি হাসি মুখে ব্রেকিং নিউজ জানালাম, অহো কি আনন্দ। সলমন খান বেল পেয়ে গেছেন। ফেসবুক খুশিতে ভাসছে, রাগে ফুটছে।

ময়ূখের রিয়্যাকশনের জন্য অপেক্ষা করা খুবই কঠিন কাজ আমার পক্ষে। প্রথমত শুনেছে কিনা তাই বোঝা যায় না, তার ওপর ‘হ্যাঁ –না” কিছু বলতে অগাধ ভাববে।

আর আমার এত কথা বলবার থাকে———–

এই যেমন দাবাং এর খবরটা দাবানলের মত ছড়িয়েই মনে পড়ে গেলো, এই উইকেন্ডে এত কিছু আছে, একটা প্রপার প্ল্যান ছাড়া এগোন অসম্ভব।

“চলো প্ল্যানটা ছকে ফেলি”- বলতেই মহা উৎসাহে মাথা নাড়ল ময়ূখ। সিলেক্টিভ হিয়ারিং এর নিদারুণ উদাহরণ।

আচ্ছা শনি-রবি-সোমের পরেই মঙ্গলবার আসে কিনা? আর মঙ্গলবার এলেই ওইদিন সারা মন্ট্রিয়লে মুভি টিকিট যে অর্ধেক দামে বিক্রি হয় সেটা মনে পড়বে কিনা? আর  পিকু না দেখতে পেলে যে এ জীবন রেখেই বা কি, সেটা একামেবাদ্বিতিয়ম জীবনসঙ্গীকে জানিয়ে দেওয়া  এক অতি অবশ্যকর্তব্য কিনা?

আর মুভি হলের পাশেই শপিং মল থাকে কিনা? আর শপিং মলের কথা উঠলেই কদিন আগে আপনার বন্ধু যে দুটো দুর্দান্ত জুতো বিচ্ছিরি রিবেটে কিনেছে মাইকেল কোর’স  থেকে সেই প্রায়  ভুলে যাওয়া ব্যথাটা জায়ান্ট লীপ নেবে কিনা?

একনাগাড়ে সবকটা “কি না রূপ”  ভাবনার সানন্দ বিতরণ শেষে থেমে দেখি   হতাশ তাকিয়ে আছে সে। “ উফফ। কোথা থেকে কোথায় চলে যাও”।

কোথায় আবার যাব? এখানেই তো আছি।  অপ্রস্তুত হাসি আমি।

আচ্ছা আপনাদের এরকম হয়? নাকি এই এক কথা থেকে সম্পূর্ণ অন্য একটা কথায় চলে যাবার অপূর্ব ডাউনস্ট্রিম মেথডটা একলা আমারই আয়ত্ত?

সূর্যদা বলেন “ কথাগুলো সার্কল হলেও বুঝতাম। কখনোই পয়েন্টে মিট করে না!”

কিন্তু আশ্চর্য কান্ড এটা কিন্তু মুষ্টিমেয় মানুষের সঙ্গে বাক্যালাপ করবার কালেই হয়ে থাকে। যাঁদের সাহচর্যে আমি ভীষণরকম কমফর্টেবল একমাত্র তাঁদেরই এরকম জ্বালাতন করে থাকি।

মনে আছে একজনের কানের মাথা খেয়ে ফেলবার পর “আমি কি বাজে বকি’ দিয়ে কনক্লুড করে লজ্জা প্রকাশ করলে তিনি আমায় প্রভূত আশ্বাস দিয়েছিলেন এই বলে যে “কোনও প্রবলেম নেই। আমি ইমিউন হয়ে গেছি!”

কি?  উইকেন্ড প্ল্যানটার কথা জিগ্যেস করছেন? নাহ। ওটা সাজানো হয়নি এখনো। কিন্তু আগামী দুদিনের ভেতরে হয়ে যাবে। যাবেই!

 

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: