দ্য আদার সাইড

এক ঝুড়ি সরস-অতি সরস ঝালমুড়ি টাইপ টীকা টিপ্পুনি আমদানি হয়েছে আমার ফেসবুক ইনবক্সে। সৌজন্যে “ম্যানস ব্রেন”।

গালে হাত দিয়ে অনেক ভাবাভাবির শেষে মনে হল- নাহ এবার উত্তরগুলো দিয়েই ফেলা যাক এক এক করে।

এবং ফার্স্ট থিং ফার্স্ট। আমি কিন্তু আজ অব্দি জ্ঞানে-অজ্ঞানে- টং হয়ে-হ্যাং ওভারে কোত্থাও কক্ষনো দাবী করিনি যে আমি ছেলে দেখি না। ময়ূখ না দেখাল তো বয়েই গেল, আমার এমন পদ্মপলাশলোচনদ্বয় কস্মিনকালেও  অত কিছু অন্যের ভরসায়  চলেনি।

আমি নিশ্চয়ই ছেলে দেখি। না দেখলে এই প্রতিকুল জীবনসমুদ্রে অনন্ত দাঁড় বাইবার এনার্জি কোথা থেকে আসতো বলুন।  কিন্তু এক সময়ে যেরকম হৃদয়গ্রাহী নিষ্ঠা সহকারে একাগ্র চিত্তে অবলোকন করতাম, সেটায় এখন খানিকটা ঘাটতি পড়েছে। অবিশ্যি  না পড়াটাই নিদারুণ  আশ্চর্যের হত।  কাল মানুষের কিছু হরণ করবে না? বয়স বাড়ে কেন তাহলে?

বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু প্যাথেটিক প্রকৃতির লাজুক ছিলাম একসময়। মনে আছে  ক্লাস ইলেভেনের ম্যাথস টিউশনের প্রথম দিন। টিম টিম করছি আমরা দুটি মেয়ে আর ঘর বোঝাই ছেলে। তারা সবাই সবাইকে চেনে, ক্লাস ওয়ান থেকে সবকটা একসাথে পড়েছে বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনে। স্যার একেই বুড়ো মানুষ তায় ডায়াবিটিক, মাঝে মাঝেই চক- ডাস্টার ছেড়ে টুকুস উধাও হয়ে যান আর এই বালখিল্যের দল হা হা হি হি তে ফেটে পড়ে। আর থেকে থেকেই আমার কান লাল হয়ে যায়- “ইম্পসিবল। এই আনসিভিলাইজড জনতার সাথে কিছুতেই এক গ্রুপে থাকা যাবে না”।

কিন্তু গ্রুপ বদলের আগেই কি করে যেন মনটা বদল হয়ে গেলো। আর সেই “আনসিভিলাইজড জনতা” মনের আনন্দে দিন নেই রাত নেই হানা দিতে লাগলো বাড়িতে। অনেক পরে মা বলেছিলেন তাদের উপদ্রবে আমার বরফ ঠাণ্ডা মাথা বাবা পর্যন্ত পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

“ ক্লাস ইলেভেনেই এই। আঠারো হলে এ মেয়ের কি হবে ভেবে দেখেছো? কিন্তু তুমি তো দেখছি কিছুই বলছ না”- বাবা নাকি চটে মটে  বলেছিলেন মাকে।

আর এখানেই আমি চমৎকৃত হয়ে গেছিলাম আমার মায়ের স্টান্সে।

“সত্যি তুমি কি করে এত কুল থাকতে মা? রাত-বিরেতে কি জ্বালান জ্বালিয়েছে ওরা”। অন টপ অফ দ্যাট বাবাকেই বা কি করে সামলেছিলে তুমি?”

মধুর হেসে মা বলেছিলেন “ কি আর বলব। তোর বাবাকে বুঝিয়েছিলাম যে বলো কোনটা বেটার। তোমার মেয়ে বাড়ির লিভিং রুমে তোমার চোখের সামনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারছে সেটা ভালো নাকি বেপাড়ার ল্যাম্পপোস্টের তলায় দাঁড়িয়ে লুকোচুরি খেলছে সেটা?”

এই সাংঘাতিক পলিটিশিয়ান মায়ের সাথে কখনো পারা যায়?

সেই শুরু। তারপর তো বাড়ির সীমানা ছাড়িয়ে দূর দূর ছুট- হোস্টেল।

ব্যাঙ্গালোরে অটো ফেয়ার খুব বিচ্ছিরি ছিল, এখনো আছে আমি শিওর। তাই বেসড অন কনভিনিয়েন্স  বাইকওয়ালা “বন্ধু”দের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকলো। ঊনিশেই তো ঊনিশ-বিশ হয় না কি!

যাই হোক কোনও আলোচনাই অতিরিক্ত ব্যক্তিগত হয়ে যাওয়া বিশেষ বাঞ্ছনীয় নয়। সুতরাং “জেনারেল” লেভেলে রিটার্ন করাই মঙ্গল।

মোদ্দা কথাটা হচ্ছে এই দেখাদেখি করাটা ময়ূখের যেমন তেমনি আমারও জন্মগত অধিকার এবং আমরা দুজনেই আরো অনেক অনেক নরনারীর মতো সেই অধিকারের ব্যাপারে সবিশেষ ওয়াকিবহাল।

কিন্তু বেশ কিছুদিন হল একটা সিভিয়ার গোলমাল দেখতে পাচ্ছি।  মুশকিল হচ্ছে গোলমালটা পাকাচ্ছে আয়নার সামনে।

বাইশ-তেইশের ছেলেমানুষিটা আজও রয়ে গেছে আয়নার মুখের রেখায়, চোখের তারায়।  গভীরতা বেড়েছে শুধু হৃদয়ের নিলয়-অলিন্দে, কিন্তু সেটার কেরামতি তো আর বাইরে থেকে দেখা যায় না!

এখন যেদিকেই চাই কিরকম যেন “প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে” ফিলিং, কিছুতেই কিছু যায় আসে না তাই আর।

“ওয়েল। দ্যাটস দ্য ওয়ে আ ওম্যানস ব্রেন ওয়ার্কস আই গেস! হোয়েন লাভ হ্যাপেন্স!বাট নাথিং অফিশিয়াল অ্যাবাউট ইট”!

 

Advertisements

2 Comments

Add yours →

  1. ইন্টারেস্টিং অবজারভেশন্স। তোমার ব্লগে কে কি কমেন্ট করছে পড়িনি, তবে এটুকু বলতে পারি, তোমার এই “ছেলে দেখা” (এবং ছেলেদের ও সেইরকম “মেয়ে দেখা”) নরমাল ব্রেন এবং সুস্থ মানসিকতার লক্ষন, তবে এটাও ঠিক যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পার্স্পপেক্টিভ পালটে যায়, “দেখা” ব্যাপারটাই অন্য রকম হয়ে যায়, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন নেট-এ এই এক উৎপাত খুব বাড়ছে, দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ সুযোগ পেলেই ভুল্ভাল কমেন্ট করছে,লো গ্রেড, র, বিলো নেটিকেট। এটা একটা মানষিক বিকৃতি । এই নিয়ে আমাদের ওন্য একটা ফোরামে প্রচুর আলোচনা হল এই ক’দিন আগেই। এর কোন সহজ সমাধান নেই।

    Like

    • As far as this post is concerned.. the comments are from people I have known since long..so that’s absolutely fine with me..:)
      But you are so right..those dirty messages..they keep coming..khub kharap lagle baddhyo hoye block kore di..kintu seriously speaking..at times khub tired laage eta theke..ki dhoroner sob proposal ashe bhabteo lojja kore you know..

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: