ম্যানস ব্রেন

লিক্যুইড সোপ, শ্যাম্পু, চকোলেট, কুকি, সারা সপ্তাহের কিছুমিছু ইত্যাদি প্রভৃতিতে হাত এবং মস্তিষ্ক বোঝাই, একইসাথে ঝড়ের গতিতে বোঝবার চেষ্টা করছি ঠিক কোন কাউন্টারটায় দাঁড়ালে  ফাস্টেস্ট একজিট হতে পারে।

কাজটা শুনতে সোজা বটে কিন্তু  আদতে মোটেই সহজ নয়, আরও মনে রাখতে হবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটাই কিন্তু হচ্ছে ময়ূখকে ডজ করে।

কারণ আছে বাবা কারণ আছে।

ওই যে দেখছেন ডান দিকের কর্নারের সুন্দরীটিকে? হেসে হেসে খদ্দের সামলানোর বৃথা কর্মে ব্যাপিত? মিলিমিটার খানেক চান্স পেলেই ময়ূখ উড়ে যাবে এই পারটিকুলার লাইনটাতে। মধ্যপ্রাচ্যর সৌন্দর্য তাঁর ভীষণ পছন্দ।

সে হোক, তাতে আমার ছিটেফোঁটাও আপত্তি নেই।  আরে অ্যাপ্রিশিয়েশন না পেলে আর সুন্দরী হয়ে লাভ কি? এত সাজুগুজু করেই বা কি হবে?  কিন্তু আজকাল দুনিয়াটা এত গোলমেলে হয়ে  গেছে যে শুধু রূপে আর বিশেষ কাজ হচ্ছে না। জনতা কাজ চায়।  আর সেখানেই হয়েছে মুশকিল। ভদ্রমহিলা অভাবনীয় রকমের স্লো।  সাংঘাতিক পরিপাটি মেকআপ আর নকল আইল্যাশের ভারে তিনি এতই ভারাক্রান্ত থাকেন যে তিন ডলার কুড়ি সেন্টের সঙ্গে আড়াই ডলার যোগ করতে ক্যালকুলেটারকেও হিমশিম খাইয়ে দেন।

সত্যি কথা বলতে কি ময়ূখেরও যে মাঝে মাঝে ধৈর্যচ্যুতি হয় না তা নয় তবে সেটা তিনি কন্ট্রোল করে নেন, শাস্ত্রে আর না হলে বলেছে কেন ক্ষমাই পরম ধর্ম?

এ সমস্ত ক্ষেত্রে যে অসীম সংযম তিনি প্রদর্শন করে থাকেন, পরে সেটা বাড়ীতে অকারণে চিল্লামিল্লি হইহল্লা করে পুষিয়ে নেন।

বহুযুগ আগে এই ময়ূখ চৌধুরীর সঙ্গে একটা ডিল হয়েছিলো আমার। সেই থেকে পূর্ব-পশ্চিম উত্তর-দক্ষিণ ডিরেকশনে এবং অতি অবশ্যই ঈশান কোণে কোনও সুন্দরী কন্যার আবির্ভাব  ঘটলেই আমি তাঁকে ভক্তিগদগদ চিত্তে অবহিত করে থাকি।

যদিও উল্টোটা তিনি কখনোই করেন না। বললেই বলবেন “কি করব বল। আমার চাইতে হ্যান্ডসাম হাঙ্ক আজ অব্দি আমি মন্ট্রিয়লের রাস্তাঘাটে দেখিনি। চোখে পড়লে তো তোমায় দেখাব”।

সে চৌধুরী সাহেবের এইসব বাজে বকা না হয় অভ্যশ হয়ে গেছে কিন্তু আমার বিস্ময়টা অন্য জায়গায়।

ধরুন মেট্রোতে উঠেছি দুজনে। আর বিচ্ছিরি সিরিয়াস মুখ করে ময়ূখ কেন সেকন্ডারি  অ্যান্টিবডিটা লেটেস্ট ইঁদুরগুলোর ওপর কাজ করছে না তার সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বার করবার বিটকেল গলিটার ভেতরে পথ হারাতে আমাকে প্রায় বাধ্য করছে  ঠিক তখুনি যদি দেখতে পাই এক পরমা সুন্দরী আমার উদ্ধারে সহায় হতে পারেন তাঁর স্মরণ নেওয়া কি অন্যায় বলুন?

আরে  “দেখ তো না দেখতো আসন টলোমলো -এই বুঝি আমার সিঃহাসনটা গেল” চিন্তায় এভার ইন্সিকিওর ইন্দ্র তো কথা নেই বার্তা নেই মুনিঋষিদের ডিসট্র্যাক্ট করতে যখন তখন রম্ভা- উর্বশীদের তলব করতেন সেখানে আমার তো একটা জেনুইন বিপদ।

তাই ফিসফিস করে আমার পতিদেবতার কানে কানে বলি “ এই, দেখ না মেয়েটা কী দারুণ দেখতে!”

ঘাড় সামান্যতম না হেলিয়ে, দৃষ্টি এক ইঞ্চিও আমার চোখের থেকে না সরিয়ে জাস্ট ঠোঁটটা স্লাইট  উল্টে তিনি ভারডিক্ট দেন “ ওকে টাইপ্স। মারাত্মক কিছু না। আর ড্রেস সেন্সটাই তো মেরে দিয়েছে”।

আমি হতবাক। ও যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে মেয়েটাকে দেখতে পাবারই কথা নয়! অ্যানড ইট হ্যাপেন্স এভরি টাইম! সে ভিড়ে গিজগিজ মাল্টিপ্লেক্স চত্বরই হোক কি পুন্টা কানার চোখ ধাঁধান সৈকত, সেকন্ডারি  অ্যান্টিবডিতে মশগুল মগজই হোক কি নাটকের পার্ট মুখস্থ করতে নাজেহাল ময়ূখ, এই স্কিলটা কক্ষনো অ্যাফেক্টেড হয়না। বিস্ময়কর প্রতিভা।

“কি করে পার এমন? প্রতিবার হারিয়ে দাও আমায়?”

জিজ্ঞেস করলেই বলবে “ওয়েল। দ্যাটস দ্য ওয়ে আ ম্যানস ব্রেন ওয়ার্কস আই গেস! বাট নাথিং অফিশিয়াল অ্যাবাউট ইট”!

ব্রেন নিয়েই কাজকর্ম করে থাকেন তিনি। কিন্তু নিজের সামান্য বায়োলজি বিদ্যেতে এটা নির্জলা গুল বলেই সারাজীবন ধরে মনে হচ্ছে আমার।

আপনারা জানেন কিছু?

 

 

 

 

 

Advertisements

5 Comments

Add yours →

  1. ki je osadharon likhis ki bolbo………..bhasa khuje pachi na………..ami prai ek dom e 3 te galpo pore fellum………:):)

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: