একটা ছেলে একটা মেয়ে

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের পরতে পরতে যতো রকম মশলা থাকা সম্ভব আর কোনটার স্বাদ ঠিক কি ধরনের হতে পারে সেটা নিয়ে সঞ্জীব চ্যাটার্জির সবকটি রচনা গোগ্রাসে আত্মস্থ করবার পর মনে হয় না আমার মত বালখিল্যের আর নিজের কিছু বলবার থাকতে পারে,  বা বলবার দুরাশা  রাখলেও সেটা আদৌ কারুর কানে যাবে কিনা তাতে সীমাহীন সন্দেহ থাকাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এটা কিনা কাস্টমাইজ করবার যুগ, বিয়েটাও তাই পারসোনালাইসড প্যাকেজে কাটে ভাল। সেইজন্য অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করলুম আমাদের স্বামী ইস্ত্রির গল্পটাও না হয় বলেই ফেলি।   হাজার হোক এই কাজটা এককালে অপরিসীম মনোযোগ সহকারে করেছিলাম তো।

সে যাক গে।

অনন্তকাল একসাথে কাটানোর পর হি হি শীতের এক দুপুরবেলায় দুজনের মনে হল, নাহ বিয়েটা এবার করে ফেলা দরকার।

যেমন মনে হওয়া ওমনি ফোন তুলে বাবা মায়ের ওপর উইদাউট মেঘ বজ্রাঘাত করেই সেটাকে মেকআপ করতে  ফিউ ড্রপ্স অফ অশ্রুপাত বর্ষণ।

“ওই ছেলেটা? ভগবান!”

“সেই মেয়েটা? রাম রাম!”

মাসদেড়েক পরে একদিন শুনলাম মা কাকে যেন ফোনে বলছেন “… মত ছেলে হয় না। আমি তো হাজার খুঁজলেও অমন ছেলে পেতাম না!”

না। আমার মা মিথ্যে কথা বলেননি একটুও। মায়ের ভাবী জামাইটিই ততদিনে মাকে আইস ক্রিমের মতো গলিয়ে ফেলেছিল।

যাই হোক। বিয়ে তো হয়ে গেল। অজস্র স্বপ্নের জাল বোনা স্বত্বেও আমার মা তাতে থাকতে পারেননি।

ফিরে এলাম মন্ট্রিয়লে। বাবা চলে গেলেন বিনা নোটিসে।

ব্যাঙ্গালোরে দেখা হয়েছিল দুজনের। সতেরোতে বাড়ি ছাড়া, ফেরা হয়নি আর।

আমরা একই সাথে বড় হয়েছি তাই। এখনো হচ্ছি।

ভুল হয়েছে। চোখ দিয়ে জল পড়েছে দুজনেরই অঝোরে। শুধরে নিয়ে আবার হেঁটেছি। হাতটা কিন্তু ছাড়িনি তা বলে।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সব আগের মতোই। কিছুই বদলায়নি। সেই সকালে উঠে দৌড়নো, বাড়ি ফিরে কি রান্না হবে তাই নিয়ে জরুরি আলোচনা সভা, সারাদিনের ব্রেকিং নিউজ দেওয়া নেওয়া, মাঝে মাঝে তুমুল ঝগড়া, খানিকক্ষণ  পরেই আবার গলা জড়াজড়ি করে বকমবকম আর ছুটি পেলেই টুকুস ঘুরে আসা এদিক ওদিক।

কিন্তু রাতের অন্ধকারে নিঝুম বারান্দায় যখন মিটমিটে চাঁদটার সঙ্গে মোলাকাত হয় একলা আমার, বুঝতে পারি কিচ্ছুই নেই আর আগের মত। সব বদলে গেছে। সব।

ও যেন কোথায় ছাড়িয়ে গেছে আমাকে কিছু না বলে, এই প্রথম। কখনো আমার মা, কখনো হারিয়ে যাওয়া বাবার মতো ঘিরে রাখতে হলে তো আরও অনেক বড় হয়ে যেতে হয়। তাই না?

সেটাই হয়ে গেছে আজ ।

কবে, কখন, কেমন করে আমি বুঝতেও পারিনি।

এমন বন্ধু একটাও নেই আমার। ওকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন? একই কথা বলবে।

খুব বেশি কিছু আর চাইবার নেই এখন জীবনের কাছ থেকে। কতকিছুই তো হল। একসাথে বুড়ো হতে কিরকম লাগে সেটাই জাস্ট জানতে চাই বাকি রাস্তাটা হাঁটতে হাঁটতে ।

 

Advertisements

2 Comments

Add yours →

  1. tomra jokhon buro hobe tokhon hoito ami thakbo na kintu ishwarer kache parthona kori satti kore bondhu hoya ai bhabe atut thako.god bless both of u.

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: