জিঞ্জার গারলিক পেস্ট

আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু স্বল্পস্থায়ী দুটো বছর কেটেছিল ভেলোরে।

ব্রায়ান অ্যাডামস ধার করলে বলতে হবে  “বেস্ট ডেজ অফ মাই লাইফ”।  ভেলোর ইন্সটিট্যুট অফ টেকনোলজি থেকে মাস্টার্স করবার দিনগুলোর কথা বলছি।

হোস্টেলে জায়গা না পাওয়ায় থাকতাম একটা ছোটো ঘরে, ইন্সটিট্যুট সেখান থেকে অটোতে পাঁচ মিনিটের পথ।

পুঁচকে টাউনটায় ছুটির দিনকেও লাইব্রেরিতে পড়ে থাকা ছাড়া বিশেষ কিচ্ছু করবার থাকতো না সেরকম। কিন্তু ময়ূখ আর আমি দুজনেই আবার একটু সোশ্যাল প্রকৃতির পাবলিক হওয়ায়  অফুরন্ত সুযোগ থাকা স্বত্বেও সারাক্ষণ শুধু “আমি তুমি” করাটা কোনোদিনই সেরকম ফেভারিট আক্টিভিটি ছিল না আমাদের।

সে যাই হোক। এরকম মনোভাবের জন্যই হয়তো বা ভাষার দুস্তর বাধা পেরিয়েও বাড়ির কাছেই মুদির দোকানের মালিকের সাথে ভারি ভাব হয়ে গেছিল আমাদের। তাঁদের টুটাফুটা ইংরেজি আর আমাদের অনির্বচনীয় তামিল একটুও মাঝখানে আসেনি সেই সম্পর্কের।

মালিক মা আর দুই প্রাপ্তবয়স্ক কিন্তু বালক স্বভাব তখনো অবিবাহিত দুই ছেলে নিয়ে দোকানের সঙ্গেই চলতো তাঁর ভরপুর সংসার। সেই দু বছরে তাঁর বাড়ির সমস্ত অনুষ্ঠানে আমাদের নেমন্তন্ন থেকেছে।

আমার সাথে বাক্যালাপের ফাঁকে ফাঁকেই প্রায়ই আফসোস করতেন আন্টি; “ কি যে হবে আমি না থাকলে। ছেলেদুটো এত সরল, সবাই ওদের ঠকিয়ে দেবে জানো। পইপই করে বলেছি ওরে খদ্দের হচ্ছে লক্ষ্মী, কক্ষনো ফেরাতে নেই তাদের। যেটা চাইবেন সেটা না থাকলেও অন্য কোম্পানির জিনিস দেখাবি, শুধু হাতে যেন ফিরে না যায় কেউ। ভগবান জানেন কতটা কি মাথায় ঢোকে ওদের ”।

চুপ করে শুনতাম আমি। কি বা আর বলব।

সেটা ছিল এক শনিবার। ময়ুখ স্পেশ্যাল রান্না করবে তাই আমার ওপর ভার পড়ল চটপট কয়েকটা জিনিস কিনে আনবার।

লিস্টি মিলিয়ে মিলিয়ে কিনতে হবে সব। আন্টি সেদিন নেই। আমি একটা একটা  করে বলে  যাচ্ছি আর দুই আন্না ( তামিলে দাদা)  মহোৎসাহে খুঁজে বেড়াচ্ছে কোনটা কোথায় আছে।

এইরকম চলতে চলতে পালা এল জিঞ্জার গারলিক পেস্টের।

“জিঞ্জার গারলিক পেস্ট?”

ভ্রূ কুঁচকে থমকে গেল দু ভাইই। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বস্তুটার নামই এই প্রথম কর্ণকুহরে প্রবেশ করছে তাদের।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম সব মিলে কত হয়েছে।

উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ না করে হঠাৎ গর্বোজ্জ্বল মুখে আমার দিকে একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দিলেন বড় আন্না।

আর সেটা হাতে নিয়েই চোখ কপালে উঠল আমার। এটা আবার আমি কখন চাইলাম?

“আহা তুমি এটা না হয় চাওনি। তা সেটার থেকে এটা খারাপ কি? এই কোলগেট? এটাও পেস্ট। আর নিয়ে দেখগে একবার, তোমার ওই জিঞ্জার না কি তার চাইতে অনেক ভাল! মা বলেছেন কাউকে খালি হাতে ফেরাতে নেই!”

পরেরদিন আন্টিকে বলেছিলাম ছেলেদের নিয়ে অত চিন্তা করবার কোনও কারণ নেই ওঁর। আমার  অমন ডিডাকশনের কারণটা না জেনেই ভারি খুশি হয়ে গিয়েছিলেন আন্টি।

 

Advertisements

2 Comments

Add yours →

  1. darun mojar ghotona ta khub bhalo bhabe baakto korechish

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: