ভালোলাগার অলিগলি

পরের বাক্যটি পড়লেই আপনি আমার কলকাতাত্ব, বাঙ্গালিত্ব এমনকি ভারতীয়ত্ব নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন, পরের লেখাগুলো আর একটাও নাও উল্টে দেখতে পারেন, চাইলে নাক সিঁটকে চোখ কপালে তুলে আমাকে অবিলম্বে সাইকায়াট্রিসট দেখানোর পরামর্শ দিতে পারেন, আমি কিচ্ছুটি মনে করব না। কিন্তু সত্যি কথাটা এইবেলা আমায় বলে ফেলতেই হবে।

আমি না মানে ফুচকা একেবারে ভালবাসি না। ভালবাসা তো দূর কি অস্ত, বস্তুটিকে আমি প্রভূত পরিমাণে অপছন্দ করে থাকি বলাটাই যথার্থ।

আসলে বাড়িতে গুচ্ছ গুচ্ছ ডাক্তার থাকার দরুণ   ওই তেঁতুল জলটাই যে কলকাতার যাবতীয় মাল্টি ড্রাগ রেজিসটানট ব্যাকটিরিয়ার জন্মস্থান সেটা এমন করে জনগণ সাকসেসফুলি মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে এ জীবনে আর তার হাত থেকে মুক্তির রাস্তা আমার জানা হল না। কচি বয়সের তুলতুলে মনে পার্মানেন্ট ফুচকা বিরোধিতার ছাপ পড়ে গেল।

সে যন্ত্রণার কাহিনী কারুর না শোনাই ভাল, সইতে পারবেন না।

জ্ঞ্যনচক্ষু সামান্য উন্মীলিত হতেই বুঝতে পারলাম কি রস থেকে বিধাতা কিংবা তাঁর ডিরেক্ট রিপ্রেসেনটেটিভ হিসেবে মা আমাকে চিরতরে বঞ্চিত করেছেন।

কিন্তু অচিরেই একটা অলটারনেটিভ আবিষ্কার করে ফেললাম আমি। এককথায় আপনার কাছে ফুচকা যা আমার কাছে চুরমুর ঠিক তাই।

রাস্তার মোড়ে প্রমোদের হাঁক কতো শত শত চনমনে সন্ধ্যের সাক্ষী।

এবার বাড়ি বিক্রি করবার উদ্দেশ্যে কলকাতা যাওয়ায় কোনও কিছুই ঠিক যেন ভেতরে ঠিক দাগ কাটতে পারছিল না, অথবা এত বেশি হৃদয় তোলপাড়ে হয়তো বুঝতে পারছিলাম না সেভাবে।

একদিন ফেরবার পথে শুনলাম, প্রমোদ রাস্তায় দাঁড়ানো বন্ধ করে দিয়েছে অনেকদিন। কিন্তু অনন্যার কাছে ওর নতুন স্টলে এখনো নাকি আগের মতই ভিড় হয়।

টুকটুক করে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম একপাশে। প্রমোদের সাথে দেখা হয়নি। ওর ছেলে এখন আমার দেখা তখনকার প্রমোদের সাইজ, নির্বিকার মুখে জিজ্ঞেস করল, ঝাল বেশি না কম?

মন্ট্রিয়লে ফিরে এসেছি বেশ কিছুদিন। আমার এক বন্ধুর বোন সামারে একটা এন জি ওর হয়ে কাজ করতে ইন্ডিয়া গেছিল।

যাবার আগে যত উত্তেজিত ফিরে এসে তার ট্রিপল খুশি।

দিল্লি রাজস্থানে কাজ করে কলকাতা গেছিল ওদের টিম। কলকাতা দারুণ জায়গা, শুধু ওই ধুলো  আর ভিড়টা যদি একটু কম হত। কিন্তু তাতেও কিছু যায় আসে না।

“ আমরা তো খুব খেয়েছি রাস্তা থেকে! আহ স্বর্গীয়!” গড়গড় করে বলে যায় এলিস আর আঁতকে আঁতকে উঠতে থাকে আমার বন্ধু মীরে।

“ওহ মাই গড! স্ট্রীট ফুড! ডিডনট ইয়ু গাইস ফল সিক?”

দিদির কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে এলিস খোঁচা মারে আমাকে “ আহ ভুলে যাচ্ছি তো! বলনা ওইটার নাম কি? সেই যে মাশড পোটাটো আর হরেকরকম মশলা দিয়ে বানায়?”

বিরস বদনে আমি উত্তর দিলাম “ফুচকা?”

“ওহ নো নো আই লাইকড দ্য আদার ওয়ান মোর! কি যেন নামটা? স্যাড়ম্যাড়?”

নিজের অজান্তেই কখন যেন জ্বলজ্বল করে উঠেছে আমার চোখ। শান্ত গলায় শুধরে দিলাম এলিস কে আর স্মৃতির দেওয়াল চুরমার করে খুব মন খারাপ করতে লাগলো, হঠাৎ ই।

প্রমোদের জন্যই হয়ত বা।

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: