দৃশ্য ৪- অথ কলকাতা কথা

স্থান- নাগেরবাজার

সময়- দুপুর ১২ টা

কাল- অসহনীয় গরম।

ছোটোমাসিকে নিয়ে যাব মাসির বাড়ি তালতলা। কিন্তু আসমুদ্রহিমাচল চষে ফেলেও একটি ট্যাক্সির দেখা মিলল না। যদি বা দু একটার দেখা পেলাম তাদের সবার মুখেই কিরকম একটা নির্বিকল্প সমাধির ভাব। তা স্বত্তেও খুব কিছু দোষ দেখতে পাচ্ছিলাম না তাদের, কারণ কেই বা আর সাধ করে দিগন্ত বিস্তৃত এক মিছিলের পাল্লায় পড়তে চায় ? এই যে পনেরো মিনিট দাঁড়িয়ে আছি, শেষ আর শুরু কোনটাই দেখতে পাইনি কিন্তু লাইনটার।

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মিছিলের ডিরেকশন নামক বস্তুটিকে বেঁকিয়ে চুরিয়ে এমন এক রূপ দেওয়া হয়েছে যে চিরচেনা জায়গাটার ভূগোলটাই বিলকুল অচেনা লাগছে তখন।

কি আর করি। গুটিগুটি পায়ে গিয়ে দাঁড়ালাম ঠিক তার পাশে।

গলদঘর্ম,  শশব্যস্ত মুখে এই চাঁদিফাটা  গরমে স্বেচ্ছাসেবকের পবিত্র গুরুদায়িত্ব  নিজ রুগ্ন স্কন্ধে তুলে নিয়েছে যে এমন নিষ্ঠাবান হৃদয়ের ওপরেই তো ভরসা করা যায়।

কিন্তু দেখা গেল সে মোটেই আমাকে পাত্তা দিতে রাজি নয়। “ পাগল নাকি আপনি? তালতলা এখন পুরো অফ রুট। তার চাইতে সাহারা যাওয়া সোজা। ব্যবস্থা করে দিচ্ছি আপনি বরং এয়ারপোর্ট চলে যান”।

“এয়ারপোর্ট চলে যাব? কিন্তু সেখানে তো যেতে চাই না আমি! কি করব সেখানে গিয়ে ?” ফ্যালফ্যালে চাউনি হেনে শুধাই আমি।

“কি আর করবেন। মাসিকে নিয়ে আরাম করে বসে  প্লেনের ওঠানামা দেখবেন, তারপর মিছিল বি বি দী বাগ পৌঁছে গেলেই ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন। কতক্ষণেরই বা মামলা? যাবেন তো বলুন দিদি”, অলমোস্ট আলটিমেটাম দেবার গলায় আমাকে আলোকিত করেন তিনি।

“থাক। খুব হয়েছে। আর দিদি বলবেন না। বলছি মাসির পায়ে ভীষণ ব্যথা তার ওপর এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন, কাজের কাজ তো কিস্যু পারেন না উল্টে আবার বলে এয়ারপোর্ট চলে যান!” সাংঘাতিক রেগেমেগে উলটো দিকে হাঁটা লাগাই এবার আমি।

ঠিক সাড়ে তিন সেকনডের মাথায় ভেসে আসে ডাকটা, “একটু দাঁড়ান দিদি”।

তারপর?

তারপর আর কি?

এক বারাসতগামী ট্যাক্সিকে সম্পূর্ণ রূপে বিপথগামী করে, তার হতভম্ব চালক কিছু বুঝে উঠে রিঅ্যাক্ট করবার আগেই গুছিয়ে বসতে বসতে শুনতে পেলুম জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে সে বলছে “ সোজা তালতলা নিয়ে যাবে দিদি আর মাসিকে, মিটারে বুঝেছ”।

ফুরফুরে মিঠে হাওয়ায় খানিকক্ষণ জিরিয়ে দুষ্টু দুষ্টু  হেসে মাসি বললেন “ তোকে তো বলেইছিলাম দিদি ডাকের মার নেই  এ রাজ্যে। কত করে বলছি  দিদি নাম্বার ওয়ান প্রোগ্রামটা দেখ একদিন। সেদিনও ছোটো কাকিমার পিসশাশুড়ির নাতবউয়ের বড়দি এসেছিলো। তুই মোটে কথা শুনিস না”!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: